সাইপ্রাসের উপকূলে ফেরিডুবিতে অন্তত ৮ জন নিহত, ডজনের বেশি নিখোঁজ

উত্তাল সাগরে পরপর দুটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে উল্টে গেছে যাত্রীবাহী একটি ফেরি। এতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এখনো এক ডজনের বেশি যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও ফেরিটি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ফেরিটির ক্যাপ্টেনসহ আটজন ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানান, ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। উপকূলীয় পর্যটন শহর কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর পর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেটি উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান শুরু করা হয়। এতে তুরস্কের কর্তৃপক্ষও অংশ নেয়। ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ও কোস্টগার্ডের নৌযান পাঠানো হয়। উদ্ধার করা যাত্রীদের চিকিৎসা ও নিরাপদে সরিয়ে নিতে সৈকতে অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, প্রায় ১০০ যাত্রীকে এরই মধ্যে নিরাপদে তীরে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী উস্তেল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার মানুষের জীবন রক্ষা করা।’ তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী, উদ্ধারকারী দল ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। সামান্যতম অবহেলাও খুঁজে বের করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

উস্তেল তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটিকে জানান, ফেরিটি শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এর যাত্রা বিলম্বিত হয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ফেরিটিতে পরপর দুটি বড় ঢেউ আঘাত হানে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ক্যাপ্টেন। এর মধ্যেই দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত করলে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে সেটি উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার সময় নিজের নৌযান নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মুস্তাফা কোচ। তিনি প্রায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, সমুদ্র শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরিটির যাত্রা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য পরিস্থিতি নিরাপদ ছিল না। সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল।’ ফেরিটি দুর্ঘটনার আগের দিন কিরেনিয়ায় পৌঁছেছিল এবং এর সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতি ছিল বলেও দাবি করেন কোচ।

মেরিটাইম ট্র্যাকিং সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটি ‘ফিলো জেট’ নামের একটি উচ্চগতির নৌযান। এর দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ মিটার। এটি তুরস্কের পতাকাবাহী জাহাজ হিসেবে চলাচল করত।

রবিবার সন্ধ্যায় পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি টিআরটিকে জানান, ফেরিটি পুরোপুরি ডুবে গেছে। ফেরিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলো ডেনিজচিলিক এক বিবৃতিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য দিতে একটি হটলাইনও চালু করা হয়েছে।

তবে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের জাতীয়তা এবং আহতদের সর্বশেষ অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে পানিতে উল্টে থাকা ফেরিটির ওপর লাইফ জ্যাকেট পরা কয়েকজনকে দেখা গেছে।

দুর্ঘটনায় তুর্কি সাইপ্রিয়টদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রবিবার এক সামরিক অনুষ্ঠানে এরদোয়ান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উত্তর সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।

উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রকে শুধু তুরস্ক স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভক্ত সাইপ্রাস দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।