পিঠের নিচে ছোট্ট গর্ত বা একগুচ্ছ চুল হতে পারে মেরুদণ্ডের সমস্যার সংকেত, চিকিৎসকের পরামর্শ
শিশুর পিঠের নিচের দিকে ছোট্ট একটি গর্ত, একগুচ্ছ চুল, কালো দাগ কিংবা চামড়ার অস্বাভাবিক উঁচু অংশ অনেক সময় এগুলোকে সাধারণ জন্মদাগ মনে করে গুরুত্ব দেন না বাবা-মা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের চিহ্ন মেরুদণ্ডের জন্মগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের একটি সমস্যার নাম স্পিনা বিফিডা অকল্টা। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
ডা. আব্দুর রহমান জানান, এটি মেরুদণ্ডের একটি জন্মগত ত্রুটি, যেখানে মেরুদণ্ডের হাড়ের কিছু অংশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না-ও হতে পারে। ‘অকল্টা’ শব্দের অর্থ গোপন, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে সমস্যাটি স্পষ্ট বোঝা যায় না এবং শিশুও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তবে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন হাঁটতে সমস্যা, পায়ে দুর্বলতা, বারবার পড়ে যাওয়া, পায়ে ব্যথা বা অবশভাব, প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পায়ের গঠনে অস্বাভাবিকতা।
লক্ষণ: পিঠের নিচের কোন লক্ষণগুলো দেখলে সাবধান হতে হবে জানালেন চিকিৎসক
ছোট্ট গর্ত
অস্বাভাবিকভাবে একগুচ্ছ চুল
কালো বা অস্বাভাবিক জন্মদাগ
চামড়ার উঁচু বা ফুলে থাকা অংশ
অন্য কোনো অস্বাভাবিক ত্বকের চিহ্ন
তাহলে বিষয়টি চিকিৎসকের নজরে আনা ভালো। তবে এমন চিহ্ন থাকলেই যে শিশুর স্পিনা বিফিডা অকল্টা হয়েছে, তা নয়।
স্পিনা বিফিডা অকল্টা জটিল সমস্যা। ছবি: সংগৃহীত
সমস্যার কারণ ও সমাধান
ডা. আব্দুর রহমান স্পিনা বিফিডা অকল্টার কারণ নিয়ে বলেন, গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকে শিশুর নিউরাল টিউব ও মেরুদণ্ডের গঠন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন না হলে এই জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। এটা বেশ জটিল সমস্যা। তবে গর্ভাবস্থার আগে ও শুরুর সময়ে পর্যাপ্ত ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সময়ে চিকিৎসকরা গর্ভধারণের কমপক্ষে ১ মাস আগে থেকে ফলিক অ্যাসিড শুরু করতে বলেন। গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহ (৩ মাস) পর্যন্ত নিয়মিত চালিয়ে যাবেন।
যদি শিশুর লক্ষণ ও শারীরিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী স্পাইন এক্স-রে, নবজাতকের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই এবং নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা করতে পারেন। প্রয়োজনে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন অথবা অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
গর্ভধারণের আগেই কেন ফলিক অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ
শিশুর নিউরাল টিউব গঠন গর্ভাবস্থার একেবারে প্রথম দিকে শুরু হয় অনেক সময় গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগেই। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগে থেকেই ফলিক অ্যাসিড শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে গর্ভধারণের কমপক্ষে এক মাস আগে থেকে প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম (০.৪ মিলিগ্রাম) ফলিক অ্যাসিড এবং গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে বিশেষ ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক ভিন্ন মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন। তাই শিশুর পিঠের নিচে অস্বাভাবিক কোনো চিহ্ন দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুরু থেকেই ফলিক অ্যাসিড সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
একটি ছোট্ট গর্ত বা একগুচ্ছ চুল সবসময় সমস্যা নয় তবে কখনো কখনো এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেতও হতে পারে। সচেতন থাকুন, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জেড