রেকর্ড গড়লেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দেশটির প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বারিতে এক সমাবেশে সমর্থকদের সামনে এ অর্জন তুলে ধরে ২০২৭ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মেলোনি। খবর ইউরো নিউজের।

শুক্রবার মেলোনি সরকারের ক্ষমতায় থাকার ১ হাজার ৪১৩ দিন পূর্ণ হয়। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির দ্বিতীয় সরকারের ১ হাজার ৪১২ দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় তার সরকার।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ-পরবর্তী ইতালির রাজনীতিতে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী সরকার বিরল। দেশটির অনেক সরকারই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে।

বারির সমাবেশে মেলোনি তার সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্বকে ডানপন্থি জোটের স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইতালির প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী তিনটি সরকারের সবকটিই মধ্য-ডানপন্থি সরকার হওয়া কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। স্থিতিশীলতাই আমাদের প্রথম বড় সংস্কার।

তার দাবি, রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার কারণে অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে এমন কিছু লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, যা ইতালির ঐতিহ্যগতভাবে স্বল্পস্থায়ী সরকারগুলোর পক্ষে কঠিন হতো।

বারির সমাবেশে মেলোনি সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কারের সাফল্যও তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে ২০২৭ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে তিনি বলেন, সবচেয়ে স্থিতিশীল সরকার মানেই সবচেয়ে সক্ষম সরকার নয়। বরং অন্যদের তুলনায় বেশি সময় ক্ষমতায় থাকায় সেই সরকারকে মূল্যায়নের সুযোগ বেশি থাকে।

৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইউট্রেন্ডের সর্বশেষ জরিপে মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালি ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

সমাবেশে বিচারব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন মেলোনি। তিনি জানান, কারাদণ্ড কার্যকর নিশ্চিত করতে আরও কারাগার নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, ক্ষমা বা সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির সমস্যা সমাধান করা হবে না।

২০২৬ সালের গণভোটে বিচারব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মেলোনি।

ওই সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবে বিচারক ও কৌঁসুলিদের পেশাগত ক্যারিয়ার আলাদা করা এবং বিচার বিভাগের স্বশাসিত ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা ছিল। গণভোটে প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন।

মেলোনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের সুযোগ হাতছাড়া হলেও ন্যায্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করাসহ বিচারব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।

সমাবেশে সরকারের দীর্ঘ পথচলার কথা বলতে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মেলোনি বলেন, এমন অনেক দিন গেছে যখন তার মনে হয়েছে, তিনি যেন আঠার মধ্যে সাঁতার কাটছেন। তবে তিনি কখনো হাল ছাড়েননি এবং এখনো ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই।

তার এ বক্তব্যের পর সমর্থকেরা ‘জর্জিয়া, জর্জিয়া’ স্লোগান দেন।

তবে মেলোনি সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্বকে সাফল্যের সমার্থক হিসেবে দেখতে নারাজ বিরোধীরা। সমালোচকদের মতে, ইতালির দীর্ঘদিনের বেশ কিছু সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ধীরগতি, কম মজুরি এবং সরকারি সেবার বিভিন্ন অদক্ষতা।

রাজনৈতিক আলোচনাও এখন সরকার কত দিন টিকে থাকবে সেখান থেকে সরে গিয়ে সরকার আরও একটি মেয়াদ পাওয়ার মতো যথেষ্ট সাফল্য দেখাতে পেরেছে কি না, সেই প্রশ্নে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে মেলোনি সরকার এখনো কার্যকর কোনো পথ দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ আরও কমানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে বিরোধীরা।

সূত্র : ইউরো নিউজ