বৃষ্টিতেও বাঁচবে বেগুন-ধান, কৃষি বিজ্ঞানীদের ‘এই’ স্পেশাল টিপস জানুন
Farmer Advisory: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে লাগাতার বর্ষণে বিপাকে পড়েছেন মালদার ১৫টি ব্লকের হাজার হাজার কৃষক। লাগাতার বৃষ্টির জল জমে বেগুন, ধান-সহ বিভিন্ন শাকসবজিতে ক্ষতিকর মোজাইক ভাইরাস ও পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং চাষিদের বিরাট ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ওষুধ প্রয়োগের বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।
মালদা, জিএম মোমিন: অসময়ে লাগাতার বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নাজেহাল পরিস্থিতি। কোথাও জমিতে হাঁটুসমান জল, আবার কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে সবজি ও বিভিন্ন ফসল। মালদা জেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতেও জল জমে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের। এই পরিস্থিতিতে অতিবৃষ্টির জেরে সম্ভাব্য রোগ ও ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।
টানা বৃষ্টি ও জমিতে জল জমে থাকায় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগ ও ক্ষতিকারক পতঙ্গের আক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কৃষি বিজ্ঞানীদের। বিশেষ করে বেগুনে মোজাইক ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। আক্রান্ত গাছে পাতায় হালকা ও গাঢ় সবুজ ছোপ, ফোসকার মতো দাগ, পাতা কুঁচকে যাওয়া এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। ফলনও কমে যায় এবং ফল ছোট, বিকৃত বা দাগযুক্ত হতে পারে।
মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডঃ পি. আনবালাগান জানান, বেগুনে এই সময় মূলত মোজাইক ভাইরাস রোগ ও পোকামাকড় দেখা দেয়। এটি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ১৬ লিটার জলে সায়ানট্রানিলিপ্রোল ১০.২৬ ওডি ১৫ মিলিলিটার, এরপর ৭ দিন পর ডায়াফেনথিউরন ৫০ শতাংশ ডব্লিউপি ৭.৫ গ্রাম অথবা থায়ামেথক্সাম ২৫ শতাংশ ডব্লিউজি ৪ গ্রাম এবং নিম তেল ৮০ মিলিলিটার প্রয়োগ করা যেতে পারে। ধানের ক্ষেত্রে রোগ দেখা দিলে ট্রাইসাইক্লাজল ২০.৪ শতাংশ ও অ্যাজক্সিস্ট্রোবিন ৬.৮ শতাংশ এসসি নির্ধারিত মাত্রায় স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৫০০ লিটার জলের সঙ্গে ১ লিটার ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে রোগের ধরন ও ফসলের অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ করতে হবে।
কৃষক সানাউল শেখ বলেন, “চাষাবাদ রক্ষার এই পদ্ধতি সবটা জানা ছিল না। কৃষি বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিলে অবশ্যই সেই পদ্ধতি মেনে চলব। সারা বছর ফসল ও সবজি চাষ করি।” গাজোল, পুরাতন মালদা, বামনগোলা, হবিবপুর, কালিয়াচক, ইংরেজবাজার, মানিকচক-সহ জেলার ১৫টি ব্লকে ধান, বেগুন, ঢেঁড়স, ঝিঙে, করলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলো, পেঁয়াজ-সহ বিভিন্ন ফসল ও সবজির চাষ হয়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩-৮ সেপ্টেম্বর মালদায় ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। ফলে এই বৃষ্টি কৃষিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কৃষকরা।