ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায়, তবু ঘুম নেই? যে ভিটামিনের ঘাটতি
Tags: banglanews, banglanews24, healthnews, trendingnews, updatenews, vairalnews, vairalnews24, viralnews, viralnews24, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায়, তবু ঘুম নেই? যে ভিটামিনের ঘাটতি
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, মেজাজের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে অনেকেই রাতে দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটিয়েও সহজে ঘুমাতে পারেন না। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, কিছু শারীরিক সমস্যা কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি কিছু পুষ্টির ঘাটতিও ঘুমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
বিশেষ করে কয়েকটি ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ঘুমের মান ও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু ভিটামিনের ঘাটতিকেই অনিদ্রার কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় ভিটামিন ডি’র ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যা ও ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
সূর্যের আলো ভিটামিন ডি’র অন্যতম উৎস। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, দুধ ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ কিছু খাবার থেকেও এটি পাওয়া যায়।
ভিটামিন ই
ভিটামিন ই একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। কিছু গবেষণায় ভিটামিন ই ও ঘুমের মানের মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অনিদ্রা দূর করতে ভিটামিন ই সরাসরি কার্যকর—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি ও বিভিন্ন বীজে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।
ভিটামিন সি
ভিটামিন সিও একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন সি ও ঘুমের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কিছু গবেষণা থাকলেও এর ঘাটতিকে সরাসরি অনিদ্রার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
কমলা, লেবুসহ বিভিন্ন সাইট্রাস ফল, পেয়ারা, কাঁচা মরিচ, ব্রকলি ও অন্যান্য সবজিতে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
ভিটামিন বি-৬
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভিটামিন বি-৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরে কিছু নিউরোট্রান্সমিটার তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত, যা ঘুম ও মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কলা, গাজর, আলু, পালং শাক, ডিম, মাছ ও গোটা শস্যে ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।
ভিটামিন বি-১২
ভিটামিন বি-১২ স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও স্নায়বিক বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু গবেষণায় বি-১২-এর ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের ছন্দের সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও অনিদ্রার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও অন্যান্য প্রাণিজ খাবার ভিটামিন বি-১২-এর ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূরক গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে শুধু ভিটামিন খাওয়ার ওপর নির্ভর না করে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমভাব কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।