হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ৫ মিনিটে যেসব ভুল এড়িয়ে চললে প্রাণে বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যায়…

Tags: , , , , ,

বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে শুধু গ্যাস-অম্বল ভেবে বসে থাকা বিপজ্জনক। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, হৃদ্পেশির ক্ষতি তত কমানোর সুযোগ থাকে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া।

প্রথম কয়েক মিনিটে যে ভুলগুলো করবেন না

১. গ্যাস ভেবে সময় নষ্ট করবেন না

বুকে ব্যথা বা চাপের সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ঝিমঝিম করা কিংবা শরীরের ওপরের অংশে ব্যথা থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। অ্যান্টাসিড খেয়ে উপসর্গ কমে কি না দেখার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করুন। হার্ট অ্যাটাক নিশ্চিত না হলেও দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই নিরাপদ।

২. নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাবেন না

হার্ট অ্যাটাকের সময় হঠাৎ অবস্থার অবনতি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি চিকিৎসাসেবার সাহায্য নেওয়া উচিত। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা প্রশিক্ষিত কর্মীরা পথে চিকিৎসা শুরু করতে পারেন এবং প্রয়োজনে সিপিআরও দিতে পারেন।

৩. নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করবেন না

হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ দেখা দিলে আগে জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করতে হবে। অ্যাসপিরিনের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রাথমিক চিকিৎসা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সচেতন প্রাপ্তবয়স্কের তীব্র বুকব্যথা হলে জরুরি সেবার জন্য অপেক্ষা করার সময় ১৬২–৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে—তবে অ্যালার্জি থাকলে বা চিকিৎসক আগে থেকে নিষেধ করে থাকলে নয়। এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে নিজে থেকে না খেয়ে জরুরি চিকিৎসাকর্মীর নির্দেশের অপেক্ষা করাই নিরাপদ।

কী করবেন?

১. উপসর্গগুলো দ্রুত চিনুন

বুকে চাপ, চেপে ধরা বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব কিংবা ব্যথা এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সব রোগীর উপসর্গ একই রকম নাও হতে পারে।

২. ব্যথা বা উপসর্গ শুরু হওয়ার সময়টি মনে রাখুন

কখন থেকে বুকব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ শুরু হয়েছে, সময়টি খেয়াল করুন। হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

৩. রোগীকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন

রোগী সচেতন থাকলে এবং শ্বাসকষ্ট থাকলে তাকে আরামদায়কভাবে বসতে বা হেলান দিয়ে থাকতে দিন। জোর করে শুইয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

৪. রোগী অচেতন হয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে সিপিআর শুরু করুন

রোগী সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে এটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের লক্ষণ হতে পারে। তখন দ্রুত জরুরি সেবায় যোগাযোগ করে প্রশিক্ষণ অনুযায়ী উচ্চমানের সিপিআর শুরু করতে হবে। সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত বুকের মাঝখানে চাপ দিতে থাকুন এবং কাছে থাকলে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (AED) ব্যবহার করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাড়িতে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া। প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।